অজুর মধ্যে আল্লাহ অনেক কল্যাণ ও বরকত রেখেছেন। হাদিসে এসেছে, ❛বেহেশতের চাবি হচ্ছে নামাজ আর নামাজের চাবি হলো অজু।❜
_(মুসনাদে আহমাদ : ৩/৩৪০)।
অজু স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ❛যে ব্যক্তি অজু থাকা সত্ত্বেও নতুন অজু করে সে ১০টি নেকি লাভ করে।❜
_(অজুর ফাজায়েল ২৫৩)।
অজুর বরকতে বান্দার অতীত জীবনের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হজরত আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ তিনি বলেন, আমি একদিন প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! অজুর ফায়দা কী? তিনি বলেন, ❛যখন তুমি অজু করবে ও দুই হাতের কবজি পরিষ্কার করে ধৌত করবে, নাকের ছিদ্র পরিষ্কার করবে, মুখ ও হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, মাথা মাসেহ করবে ও উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে, তখন তুমি যেন তোমার গুনাহসমূহ আঙুলের অগ্রভাগ ও নখ দিয়ে বের করে পরিষ্কার করে দিলে। এর পর যখন তুমি তোমার চেহারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জমিনে রাখবে, তখন তুমি এমনভাবে গুনাহ থেকে নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তোমার মা তোমাকে জন্ম দিয়েছিল।❜
__(নাসায়ি ১৪৭ ) ।
অজুকারী ব্যক্তি হাশরের ময়দানে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত হবেন। হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই অজুকারী ব্যক্তির দিকে বারবার তাকাতে থাকবে। অজুকারী ব্যক্তির হাত-পা ও মুখমণ্ডল চমকাতে থাকবে। হজরত নুয়াইম মুজমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হোরায়রা (রা.)- এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তিনি অজু করলেন। তারপর বললেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ❛নিশ্চয় কেয়ামত দিবসে আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার ইচ্ছা রাখে সে যেন তা করে নেয়।❜
__(বুখারি : ১৩৮)।
অজুর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশেষ একটি আমল আছে। এর মাধ্যমে বান্দা তার মর্তবা বৃদ্ধি করতে পারে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.) একদিন অজুর পানি চাইলেন। অজু শুরু করে তিনবার সুন্দর করে দুই হাতের কবজি পর্যন্ত ধুলেন। তারপর তিনবার কুলি করলেন। নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। এর পর তিনবার চেহারা ধুলেন। দুই হাতের কনুই পর্যন্ত ভালোভাবে তিনবার ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন এবং টাখনু পর্যন্ত পা তিনবার ধৌত করলেন। এর পর বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ❛যে ব্যক্তি এভাবে সুন্দর করে অজু করবে, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোনো খেয়াল করবে না, তার পেছনের সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।❜
__(বুখারি : ১৫৯; মুসলিম : ২২৬)।