পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার: এক অবশ্য পালনীয় ঐশী নির্দেশl: দীর্ঘ দিন সীমাহীন কষ্ট ও অবর্ণনীয় যাতনা সহ্য করে মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। মায়ের পেটে সন্তান যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে তার কষ্টের মাত্রা ততই বাড়তে থাকে। মৃত্যু যন্ত্রণা পার হয়ে যখন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তখন এ নবজাতককে ঘিরে মায়ের সব প্রত্যাশা এবং স্বপ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। এই নবজাতকের ভিতর সে দেখতে পায় জীবনের সব রূপ এবং সৌন্দর্য। যার ফলে দুনিয়ার প্রতি তার আগ্রহ এবং সম্পর্ক আরও গভীরতর হয়। পরম আদর-যত্নে সে শিশুর প্রতিপালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজের শরীরের নির্যাস দিয়ে তার খাবারের ব্যবস্থা করে। নিজে কষ্ট করে তাকে সুখ দেয়। নিজে ক্ষুধার্ত থেকে তাকে খাওয়ায়। নিজে নির্ঘুম রাত কাটায় সন্তানের ঘুমের জন্য। মা পরম আদর আর সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে সন্তানকে ঘিরে রাখে সর্বক্ষণ। সন্তান কোথাও গেলে আল্লাহর নিকট দুআ করে যেন তার সন্তান নিরাপদে ঘরে ফিরে আসে। সন্তানও যে কোন বিপদে ছুটে আসে মায়ের কোলে। পরম নির্ভরতায় ভরে থাকে তার বুক। যত বিপদই আসুক না কেন মা যদি বুকের সাথে চেপে ধরে কিংবা স্নেহ মাখা দৃষ্টিতে একবার তাকায় তাহলে সব কষ্ট যেন নিমিষেই উধাও হয়ে যায়। এই হলো মা। 🏟️আর পিতা? তাকে তো সন্তানের মুখে এক লোকমা আহার তুলে দেয়ার জন্য করতে হয় অক্লান্ত পরিশ্রম। মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়। সহ্য করতে হয় কতধরণের কষ্ট এবং ক্লেশ। সন্তানের জন্যই তো তাকে কখনো কখনো কৃপণতা করতে হয়। কখনো বা ভীরুতার পরিচয় দিতে হয়। সন্তান কাছে গেলে হাঁসি মুখে তাকে বুকে টেনে নেয়। তার নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য সে যে কোন ধরণের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। ইত্যাদি কারণে আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি কোণা পিতা-মাতার নিকট ঋণী। আর তাই তো আল কুরআনে আল্লাহ তা’আলার ইবাদতের পরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করার কথা উচ্চারিত হয়েছে বার বার।📗মহাগ্রন্থ আল কুরআনে পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ: নিম্নে বিশ্বমানবতার পথপ্রদর্শক মহাগ্রন্থ আল কুরআনে পিতামাতার প্রতি সদাচরণ ও আনুগত্য প্রদর্শনের নির্দেশ সম্বলিত কতিপয় আয়াত তুলে ধরা হলো:✅১) আল্লাহ তাআলা বলেন:وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً“তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলেও আদেরকে বিরক্তি সূচক কিছু বলো না। এবং তাদেরকে ভর্ৎসনা করো না; তাদের সাথে কথা বলো সম্মান সূচক নম্র কথা।” (সূরা ইসরা/ বনী ইসরাঈলঃ ২৩)📗আল কুরআনের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার, প্রখ্যাত সাহাবী অব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আল কুরআনে এমন তিনটি আয়াত আছে যেখানে তিনটি জিনিস তিনটি জিনিসের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। একটি ছাড়া অন্যটি অগ্রহণযোগ্য।▶সে তিনটি আয়াত হলো:◀ ✅ক) আল্লাহ তাআলা বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّـهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো তাঁর রাসূলের। এবং (তাদের বিরুদ্ধাচরণ করে) নিজেদের আমল বিনষ্ট করো না।” (সূরা মোহাম্মাদ: ৩৩)❇কেউ যদি আল্লাহর আনুগত্য করে কিন্তু রাসূলের আনুগত্য না করে তাহলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ✅খ) আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ “এবং তোমরা সালাত (নামায) আদায় করো এবং যাকাত দাও।” (সূরা বাক্বারাঃ ৪৩)❇কেউ যদি নামায পড়ে কিন্তু যাকাত দিতে রাজী না থাকে তাহলে তাও আল্লাহর দরবারে গ্রহণীয় নয়। ✅গ) আল্লাহ তাআলা বলেনঃ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ“আমার কৃতজ্ঞতা এবং তোমার পিতা-মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করো।” (সূরা লোকমান: ১৪)❇কেউ যদি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে কিন্তু পিতা-মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় না করে তবে তা আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত।🔰সে কারণেই মহাগ্রন্থ আল কুরআনে একাধিকবার আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশের সাথে সাথে পিতা-মাতার আনুগত্য করার প্রতি নির্দেশ এসেছে। ধ্বনীত হয়েছে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করার প্রতি কঠিন হুশিয়ারী। তা যে কোনো কারণেই হোক না কেনো।✅২. আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। এবং তার সাথে কাউকে শরীক করো না আর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা নিসাঃ ৩৬)।✅৩. আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:وَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْناً“আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে।” (সূরা আনকাবূতঃ ৮)✅৪. তিনি আরও বলেনঃوَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْناً عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ“আর আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে (সন্তানকে) কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।” (সূরা লোকমানঃ ১৪)❇উল্লেখিত আয়াতগুলোতে স্পষ্টভাবে পিতা-মাতার মর্যাদা এবং তাদের প্রতি সন্তানদের অধিকারের প্রমাণ বহন করছে।📚 নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিস থেকেও এ ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়:✅◉১) পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “পিতা-মাতার সন্তুষ্টির উপরই আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টির উপরই আল্লাহর সন্তুষ্টি নির্ভর করছে।” (ত্ববারানী কাবীর-সহীহ)✅◉২) ফিরে যাও, তাদের মুখে হাঁসি ফোটাও: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক সাহাবী নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আমি আপনার কাছে এসেছি হিজরত করার জন্য শপথ করতে। আমি যখন আসি আমার পিতা-মাতা কাঁদছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ارجِعْ إليهما فأضحِكْهما كما أبكَيْتَهما“তাদের কাছে ফিরে যাও, এবং যেমন তাদেরকে কাঁদিয়েছিলে এখন তাদেরকে গিয়ে হাঁসাও।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ-সহীহ)✅◉৩) তার পা ধরো, ওখানেই তোমার জান্নাত: 📚মুয়া’বিয়া ইবনে জাহাম সুহামী নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি তাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বললেন, “যাও, তোমার আম্মার সেবা করো।” কিন্তু তিনি জিহাদে যাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ জানাতে থাকলে তিনি বললেন, ويحَكَ الزَم رِجلَها فثمَّ الجنَّةُ“হায় আফসোস! তোমার মায়ের পা ধরে থাকো। ওখানেই জান্নাত আছে।” (মুসনাদ আহমাদ ও ইবনে মাজাহ্)✅◉৪) পিতার তুলনায় মার অধিকার তিনগুণ বেশী: 📚সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একলোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আমার উত্তম সংশ্রব পাওয়ার জন্য কে সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত? তিনি বললেন, তোমার মা।” লোকটি আবার প্রশ্ন করলো, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবার প্রশ্ন করলো, তারপর কে? তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে আবার প্রশ্ন করলো, তারপর কে? তিনি বললেন, “তোমার পিতা।” (বুখারী-মুসলিম)🔰অত্র হাদিস প্রমাণ বহন করে, পিতার তুলনায় মা তিনগুণ সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী। কারণ, গর্ভে ধারণ, ভূমিষ্ঠ ও দুগ্ধ দানের ক্ষেত্রে কেবল মাকেই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়। পিতা কেবল সন্তান প্রতিপালনে স্ত্রীর সাথে অংশ গ্রহণ করে। এদিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তাআলা বলেন:وَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَاناً حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهاً وَوَضَعَتْهُ كُرْهاً وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلاثُونَ شَهْراً “আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে (সন্তানকে) গর্ভে ধারণ করেছে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করেছে কষ্টের সাথে। তাকে গর্ভে ধারতে ও তার স্তন ছাড়াতে সময় লাগে ত্রিশ মাস।” (আহক্বাফঃ ১৫)✅◉৫) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানের প্রতি আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তাকাবেন না: 📚রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তা’আলা তাকাবেন না। তাদের মধ্যে একজন হল, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।” (সহীহ-নাসঈ, আহমদ, হাকেম)✅◉৬) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করবে না:📚রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাদের মধ্যে একজন হল, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।” (সহীহ-নাসঈ, আহমদ, হাকেম) ✅◉৭) তবুও অবাধ্যতা নয়: মুআয (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দশটি বিষয়ে উপদেশ দিয়ে গেছেন তা হলো:لا تُشرِكْ باللَّهِ شيئًا ، وإن قُتِّلتَ وحُرِّقتَ . ولا تَعصِ والديكَ ، وإن أمَراكَ أن تخرجَ من أَهْلِكَ ومالِكَ . ولا تترُكَنَّ صلاةً مَكْتوبةً متعمِّدًا ، فإنَّ من ترَكَ صلاةً مَكْتوبةَ متعمِّدًا ، فقد برئَت منهُ ذمَّةُ اللَّهِ . ولا تَشربنَّ الخمرَ ، فإنَّهُ رأسُ كلِّ فاحِشةٍ . وإيَّاكَ والمعصِيةَ ، فإنَّ بالمعصيةِ حَلَّ سَخَطُ اللَّهِ . وإيَّاكَ والفِرارَ منَ الزَّحفِ ، وإن هلَكَ النَّاسُ ، وإن أصابَ النَّاسَ موتٌ فاثبُت . وأنفِق على أَهْلِكَ مِن طَولِكَ ، ولا ترفَع عَنهُم عَصاكَ أدبًا وأَخِفْهُم في اللَّهِ “আল্লাহর সাথে শিরক করবে না যদিও তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয় এবং আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয় এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার, এবং সম্পদ ছেড়ে চলে যেতে বলে…।” [মুসনাদ আহমদ, শাইখ আলবানী বলনে: এ হাদিসের সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, সূত্র: ইরওয়াউল গালীল ৭/৮৯]🌴পিতামাতার প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে নবী-রাসূলগণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর মা: পিতা-মাতার সাথে কিরূপ আচরণ করতে হবে সে ব্যাপারে ইতোপূর্বে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একাধিক হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখবো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মা-জননীর প্রতি বাস্তব জীবনে আমাদের জন্য কী আদর্শ রেখে গেছেন।📚সহীহ মুসলিমে বর্ণিতো হয়েছে, হুদায়বিয়া সন্ধির সময় প্রিয় নবী-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- সাহাবীদের সাথে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাথে আছে এক হাজার ঘোড় সওয়ার। মক্কা ও মদীনার মাঝে আবওয়া নামক স্থানে তাঁর প্রাণ প্রিয় মা-জননী চির নিদ্রায় শায়িত আছেন। সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি যাত্রা বিরতী করে তাঁর মা’র কবর যিয়ারত করতে গেলেন। কবরের কাছে গিয়ে তিনি কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তার চর্তুদিকে দাঁড়িয়ে থাকা সাহাবীগণও কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর তিনি বললেন:اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي في أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي، وَاسْتَأْذَنْتُهُ في أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأُذِنَ لِي، فَزُورُوا القُبُورَ فإنَّهَا تُذَكِّرُ المَوْتَ “আমি আল্লাহর দরবারে আমার মা’র জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু অনুমতি দেয়া হয়নি। কিন্তু তার কবর যিয়ারতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাতে অনুমতি দেন। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ, কবর যিয়ারত করলে পরকালের কথা স্মরণ হয়।” (সহীহ মুসলিম)🌀ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং তার পিতা-মাতা: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর পিতা-মাতা কাফের ছিলো। তারপরও তিনি তাদের সাথে অত্যন- বিনয় ও ভদ্রতা সুলোভ আচরণ করতেন। তিনি তার পিতাকে শিরক পরিত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আহবান জানাচ্ছেনঃيَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لا يَسْمَعُ وَلا يُبْصِرُ وَلا يُغْنِي عَنْكَ شَيْئاً“আব্বাজান, আপনি কেনো এমন জিনিসের ইবাদত করছেন যা শুনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারও করতে পারে না?” (সূরা মারিয়াম: ৪২)❇কিন্তু সে তা শুধু প্রত্যাখ্যানই করলো না বরং তাকে মেরে-পিটে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিলো। তখন তিনি শুধু এতটুকুই বলেছিলেনঃسَلامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيّاً“আপনাকে সালাম। আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো।” (সূরা মারইয়ামঃ ৪৭)🌀 ইয়াহিয়া আলাইহিস সালাম: 📗আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রশংসা করে বলেন: وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّا “আর তিনি ছিলেন পিতা-মাতার অনুগত; তিনি উদ্ধত ও অবাধ্য ছিলেন না।” (সূরা মারইয়ামঃ ১৪)🔰এভাবে অনেক নবীর কথা আল কুরআনে উল্লেখ করে আল্লাহ তা’আলা বিশ্ববাসীর সামনে অনুকরণীয় আদর্শ উপস্থাপন করেছেন। 🌀পিতামাতার প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মনিষীগণ: আমাদের পূর্ব পুরুষগণ পিতা-মাতার সাথে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। এসমস্ত মহা মনিষীদের মধ্যে আবু হুরায়রা (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ), ইবনে হাসান তামীমী (রহঃ), ইবনে আউন মুযানী (রহঃ) প্রমুখের নাম ইতিহাসখ্যাত। 💫পিতা-মাতার অবাধ্যতার বিভিন্ন রূপ: পিতা-মাতার অবাধ্যতার বিভিন্ন রূপ হতে পারে যা হয়তো অনেক মানুষের কাছেই অজানা।✅১) পিতা-মাতার উপর নিজেকে বড়ো মনে করা। অর্থ-সম্পদ, শিক্ষা-দীক্ষা, সম্মান-প্রতিপত্তিতে পিতা-মাতার চেয়ে বেশী অথবা অন্য যে কোনো কারণেই হোক না কেনো নিজেকে বড়ো বড়ো মনে করা।✅২) পিতা-মাতাকে পিতা-মাতাকে সহায়-সম্বলহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায় ফেলে রাখা এবং যার কারণে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে বাধ্য হয়।✅৩) বন্ধু-বান্ধব, স্ত্রী-পুত্র বা অন্য কাউকে, এমনকি নিজের প্রয়োজনকেও পিতা-মাতার উপর অগ্রাধিকার দেয়া তাদের নাফরমানীর অন্তর্ভুক্ত।✅৪) পিতা-মাতাকে শুধু নাম ধরে বা এমন শব্দ প্রয়োগে ডাকা যা তাদের অসম্মান ও মর্যাদাহানির ইঙ্গিত দেয়।✅৫) পিতা-মাতার সাথে চোখ রাঙ্গিয়ে ধমকের সাথে কথা বলা।✅৬) তাদের সেবা-শুশ্রুষা না করা এবং শারীরিক বা মানসিক দিকের প্রতি লক্ষ না রাখা। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে বা রোগ-বধীতে তাদের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা।🕋পরিশেষে প্রতিটি জ্ঞানবান মানুষের আছে আহবান জানাবো, আসুন, পিতা-মাতার ব্যাপারে অবহেলা করার ব্যাপারে সাবধান হই। তাদের প্রতি প্রদর্শন করি সর্বোচ্চ সম্মান জনক আচরণ। কারণ এর মাধ্যমেই আমাদের পার্থিব জীবন সুন্দর হবে। গুনাহ-খাতা মাফ হবে। পরকালে মিলবে চির সুখের নিবাস জান্নাত।☝মহিমাময় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানাই হে পরওয়ারদেগার, আমাদেরকে আমাদের পিতা-মাতার সাথে চির শান্তির নীড় জান্নাতে একত্রিতো করিও। এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো প্রত্যাশা।🌎Dua..Mei..Yaad..Rakhna

✅ভূমিকা: দীর্ঘ দিন সীমাহীন কষ্ট ও অবর্ণনীয় যাতনা সহ্য করে মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। মায়ের পেটে সন্তান যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে তার কষ্টের মাত্রা ততই বাড়তে থাকে। মৃত্যু যন্ত্রণা পার হয়ে যখন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তখন এ নবজাতককে ঘিরে মায়ের সব প্রত্যাশা এবং স্বপ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। এই নবজাতকের ভিতর সে দেখতে পায় জীবনের সব রূপ এবং সৌন্দর্য। যার ফলে দুনিয়ার প্রতি তার আগ্রহ এবং সম্পর্ক আরও গভীরতর হয়। পরম আদর-যত্নে সে শিশুর প্রতিপালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজের শরীরের নির্যাস দিয়ে তার খাবারের ব্যবস্থা করে। নিজে কষ্ট করে তাকে সুখ দেয়। নিজে ক্ষুধার্ত থেকে তাকে খাওয়ায়। নিজে নির্ঘুম রাত কাটায় সন্তানের ঘুমের জন্য। মা পরম আদর আর সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে সন্তানকে ঘিরে রাখে সর্বক্ষণ। সন্তান কোথাও গেলে আল্লাহর নিকট দুআ করে যেন তার সন্তান নিরাপদে ঘরে ফিরে আসে। সন্তানও যে কোন বিপদে ছুটে আসে মায়ের কোলে। পরম নির্ভরতায় ভরে থাকে তার বুক। যত বিপদই আসুক না কেন মা যদি বুকের সাথে চেপে ধরে কিংবা স্নেহ মাখা দৃষ্টিতে একবার তাকায় তাহলে সব কষ্ট যেন নিমিষেই উধাও হয়ে যায়। এই হলো মা।

🏟️আর পিতা? তাকে তো সন্তানের মুখে এক লোকমা আহার তুলে দেয়ার জন্য করতে হয় অক্লান্ত পরিশ্রম। মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়। সহ্য করতে হয় কতধরণের কষ্ট এবং ক্লেশ। সন্তানের জন্যই তো তাকে কখনো কখনো কৃপণতা করতে হয়। কখনো বা ভীরুতার পরিচয় দিতে হয়। সন্তান কাছে গেলে হাঁসি মুখে তাকে বুকে টেনে নেয়। তার নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য সে যে কোন ধরণের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। ইত্যাদি কারণে আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি কোণা পিতা-মাতার নিকট ঋণী। আর তাই তো আল কুরআনে আল্লাহ তা’আলার ইবাদতের পরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করার কথা উচ্চারিত হয়েছে বার বার।

📗মহাগ্রন্থ আল কুরআনে পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ: নিম্নে বিশ্বমানবতার পথপ্রদর্শক মহাগ্রন্থ আল কুরআনে পিতামাতার প্রতি সদাচরণ ও আনুগত্য প্রদর্শনের নির্দেশ সম্বলিত কতিপয় আয়াত তুলে ধরা হলো:

✅১) আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً

“তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলেও আদেরকে বিরক্তি সূচক কিছু বলো না। এবং তাদেরকে ভর্ৎসনা করো না; তাদের সাথে কথা বলো সম্মান সূচক নম্র কথা।” (সূরা ইসরা/ বনী ইসরাঈলঃ ২৩)

📗আল কুরআনের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার, প্রখ্যাত সাহাবী অব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আল কুরআনে এমন তিনটি আয়াত আছে যেখানে তিনটি জিনিস তিনটি জিনিসের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। একটি ছাড়া অন্যটি অগ্রহণযোগ্য।

▶সে তিনটি আয়াত হলো:◀

✅ক) আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّـهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো তাঁর রাসূলের। এবং (তাদের বিরুদ্ধাচরণ করে) নিজেদের আমল বিনষ্ট করো না।” (সূরা মোহাম্মাদ: ৩৩)

❇কেউ যদি আল্লাহর আনুগত্য করে কিন্তু রাসূলের আনুগত্য না করে তাহলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

✅খ) আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ

“এবং তোমরা সালাত (নামায) আদায় করো এবং যাকাত দাও।” (সূরা বাক্বারাঃ ৪৩)

❇কেউ যদি নামায পড়ে কিন্তু যাকাত দিতে রাজী না থাকে তাহলে তাও আল্লাহর দরবারে গ্রহণীয় নয়।

✅গ) আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ

“আমার কৃতজ্ঞতা এবং তোমার পিতা-মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করো।” (সূরা লোকমান: ১৪)

❇কেউ যদি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে কিন্তু পিতা-মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় না করে তবে তা আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত।

🔰সে কারণেই মহাগ্রন্থ আল কুরআনে একাধিকবার আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশের সাথে সাথে পিতা-মাতার আনুগত্য করার প্রতি নির্দেশ এসেছে। ধ্বনীত হয়েছে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করার প্রতি কঠিন হুশিয়ারী। তা যে কোনো কারণেই হোক না কেনো।

✅২. আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً

“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। এবং তার সাথে কাউকে শরীক করো না আর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা নিসাঃ ৩৬)।

✅৩. আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

وَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْناً

“আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে।” (সূরা আনকাবূতঃ ৮)

✅৪. তিনি আরও বলেনঃ

وَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْناً عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

“আর আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে (সন্তানকে) কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।” (সূরা লোকমানঃ ১৪)

❇উল্লেখিত আয়াতগুলোতে স্পষ্টভাবে পিতা-মাতার মর্যাদা এবং তাদের প্রতি সন্তানদের অধিকারের প্রমাণ বহন করছে।

📚 নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিস থেকেও এ ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়:

✅◉১) পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “পিতা-মাতার সন্তুষ্টির উপরই আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টির উপরই আল্লাহর সন্তুষ্টি নির্ভর করছে।” (ত্ববারানী কাবীর-সহীহ)

✅◉২) ফিরে যাও, তাদের মুখে হাঁসি ফোটাও: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক সাহাবী নবী করীম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আমি আপনার কাছে এসেছি হিজরত করার জন্য শপথ করতে। আমি যখন আসি আমার পিতা-মাতা কাঁদছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
ارجِعْ إليهما فأضحِكْهما كما أبكَيْتَهما
“তাদের কাছে ফিরে যাও, এবং যেমন তাদেরকে কাঁদিয়েছিলে এখন তাদেরকে গিয়ে হাঁসাও।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ-সহীহ)

✅◉৩) তার পা ধরো, ওখানেই তোমার জান্নাত:

📚মুয়া’বিয়া ইবনে জাহাম সুহামী নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি তাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বললেন, “যাও, তোমার আম্মার সেবা করো।” কিন্তু তিনি জিহাদে যাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ জানাতে থাকলে তিনি বললেন,

ويحَكَ الزَم رِجلَها فثمَّ الجنَّةُ

“হায় আফসোস! তোমার মায়ের পা ধরে থাকো। ওখানেই জান্নাত আছে।” (মুসনাদ আহমাদ ও ইবনে মাজাহ্)

✅◉৪) পিতার তুলনায় মার অধিকার তিনগুণ বেশী:

📚সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একলোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আমার উত্তম সংশ্রব পাওয়ার জন্য কে সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত? তিনি বললেন, তোমার মা।” লোকটি আবার প্রশ্ন করলো, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবার প্রশ্ন করলো, তারপর কে? তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে আবার প্রশ্ন করলো, তারপর কে? তিনি বললেন, “তোমার পিতা।” (বুখারী-মুসলিম)

🔰অত্র হাদিস প্রমাণ বহন করে, পিতার তুলনায় মা তিনগুণ সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী। কারণ, গর্ভে ধারণ, ভূমিষ্ঠ ও দুগ্ধ দানের ক্ষেত্রে কেবল মাকেই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়। পিতা কেবল সন্তান প্রতিপালনে স্ত্রীর সাথে অংশ গ্রহণ করে। এদিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَاناً حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهاً وَوَضَعَتْهُ كُرْهاً وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلاثُونَ شَهْراً

“আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে (সন্তানকে) গর্ভে ধারণ করেছে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করেছে কষ্টের সাথে। তাকে গর্ভে ধারতে ও তার স্তন ছাড়াতে সময় লাগে ত্রিশ মাস।” (আহক্বাফঃ ১৫)

✅◉৫) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানের প্রতি আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তাকাবেন না:

📚রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

“তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তা’আলা তাকাবেন না। তাদের মধ্যে একজন হল, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।” (সহীহ-নাসঈ, আহমদ, হাকেম)

✅◉৬) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করবে না:

📚রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাদের মধ্যে একজন হল, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।” (সহীহ-নাসঈ, আহমদ, হাকেম)

✅◉৭) তবুও অবাধ্যতা নয়:
মুআয (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দশটি বিষয়ে উপদেশ দিয়ে গেছেন তা হলো:

لا تُشرِكْ باللَّهِ شيئًا ، وإن قُتِّلتَ وحُرِّقتَ . ولا تَعصِ والديكَ ، وإن أمَراكَ أن تخرجَ من أَهْلِكَ ومالِكَ . ولا تترُكَنَّ صلاةً مَكْتوبةً متعمِّدًا ، فإنَّ من ترَكَ صلاةً مَكْتوبةَ متعمِّدًا ، فقد برئَت منهُ ذمَّةُ اللَّهِ . ولا تَشربنَّ الخمرَ ، فإنَّهُ رأسُ كلِّ فاحِشةٍ . وإيَّاكَ والمعصِيةَ ، فإنَّ بالمعصيةِ حَلَّ سَخَطُ اللَّهِ . وإيَّاكَ والفِرارَ منَ الزَّحفِ ، وإن هلَكَ النَّاسُ ، وإن أصابَ النَّاسَ موتٌ فاثبُت . وأنفِق على أَهْلِكَ مِن طَولِكَ ، ولا ترفَع عَنهُم عَصاكَ أدبًا وأَخِفْهُم في اللَّهِ

“আল্লাহর সাথে শিরক করবে না যদিও তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয় এবং আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয় এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার, এবং সম্পদ ছেড়ে চলে যেতে বলে…।” [মুসনাদ আহমদ, শাইখ আলবানী বলনে: এ হাদিসের সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, সূত্র: ইরওয়াউল গালীল ৭/৮৯]

🌴পিতামাতার প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে নবী-রাসূলগণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর মা: পিতা-মাতার সাথে কিরূপ আচরণ করতে হবে সে ব্যাপারে ইতোপূর্বে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একাধিক হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখবো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মা-জননীর প্রতি বাস্তব জীবনে আমাদের জন্য কী আদর্শ রেখে গেছেন।

📚সহীহ মুসলিমে বর্ণিতো হয়েছে, হুদায়বিয়া সন্ধির সময় প্রিয় নবী-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- সাহাবীদের সাথে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাথে আছে এক হাজার ঘোড় সওয়ার। মক্কা ও মদীনার মাঝে আবওয়া নামক স্থানে তাঁর প্রাণ প্রিয় মা-জননী চির নিদ্রায় শায়িত আছেন। সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি যাত্রা বিরতী করে তাঁর মা’র কবর যিয়ারত করতে গেলেন। কবরের কাছে গিয়ে তিনি কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তার চর্তুদিকে দাঁড়িয়ে থাকা সাহাবীগণও কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর তিনি বললেন:

اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي في أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي، وَاسْتَأْذَنْتُهُ في أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأُذِنَ لِي، فَزُورُوا القُبُورَ فإنَّهَا تُذَكِّرُ المَوْتَ

“আমি আল্লাহর দরবারে আমার মা’র জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু অনুমতি দেয়া হয়নি। কিন্তু তার কবর যিয়ারতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাতে অনুমতি দেন। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ, কবর যিয়ারত করলে পরকালের কথা স্মরণ হয়।” (সহীহ মুসলিম)

🌀ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং তার পিতা-মাতা: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর পিতা-মাতা কাফের ছিলো। তারপরও তিনি তাদের সাথে অত্যন- বিনয় ও ভদ্রতা সুলোভ আচরণ করতেন। তিনি তার পিতাকে শিরক পরিত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আহবান জানাচ্ছেনঃ

يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لا يَسْمَعُ وَلا يُبْصِرُ وَلا يُغْنِي عَنْكَ شَيْئاً

“আব্বাজান, আপনি কেনো এমন জিনিসের ইবাদত করছেন যা শুনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারও করতে পারে না?” (সূরা মারিয়াম: ৪২)

❇কিন্তু সে তা শুধু প্রত্যাখ্যানই করলো না বরং তাকে মেরে-পিটে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিলো। তখন তিনি শুধু এতটুকুই বলেছিলেনঃ

سَلامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيّاً

“আপনাকে সালাম। আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো।” (সূরা মারইয়ামঃ ৪৭)

🌀 ইয়াহিয়া আলাইহিস সালাম:

📗আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রশংসা করে বলেন:

وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّا

“আর তিনি ছিলেন পিতা-মাতার অনুগত; তিনি উদ্ধত ও অবাধ্য ছিলেন না।” (সূরা মারইয়ামঃ ১৪)

🔰এভাবে অনেক নবীর কথা আল কুরআনে উল্লেখ করে আল্লাহ তা’আলা বিশ্ববাসীর সামনে অনুকরণীয় আদর্শ উপস্থাপন করেছেন।

🌀পিতামাতার প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মনিষীগণ: আমাদের পূর্ব পুরুষগণ পিতা-মাতার সাথে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। এসমস্ত মহা মনিষীদের মধ্যে আবু হুরায়রা (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ), ইবনে হাসান তামীমী (রহঃ), ইবনে আউন মুযানী (রহঃ) প্রমুখের নাম ইতিহাসখ্যাত।

💫পিতা-মাতার অবাধ্যতার বিভিন্ন রূপ: পিতা-মাতার অবাধ্যতার বিভিন্ন রূপ হতে পারে যা হয়তো অনেক মানুষের কাছেই অজানা।

✅১) পিতা-মাতার উপর নিজেকে বড়ো মনে করা। অর্থ-সম্পদ, শিক্ষা-দীক্ষা, সম্মান-প্রতিপত্তিতে পিতা-মাতার চেয়ে বেশী অথবা অন্য যে কোনো কারণেই হোক না কেনো নিজেকে বড়ো বড়ো মনে করা।

✅২) পিতা-মাতাকে পিতা-মাতাকে সহায়-সম্বলহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায় ফেলে রাখা এবং যার কারণে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে বাধ্য হয়।

✅৩) বন্ধু-বান্ধব, স্ত্রী-পুত্র বা অন্য কাউকে, এমনকি নিজের প্রয়োজনকেও পিতা-মাতার উপর অগ্রাধিকার দেয়া তাদের নাফরমানীর অন্তর্ভুক্ত।

✅৪) পিতা-মাতাকে শুধু নাম ধরে বা এমন শব্দ প্রয়োগে ডাকা যা তাদের অসম্মান ও মর্যাদাহানির ইঙ্গিত দেয়।

✅৫) পিতা-মাতার সাথে চোখ রাঙ্গিয়ে ধমকের সাথে কথা বলা।

✅৬) তাদের সেবা-শুশ্রুষা না করা এবং শারীরিক বা মানসিক দিকের প্রতি লক্ষ না রাখা। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে বা রোগ-বধীতে তাদের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা।

🕋পরিশেষে প্রতিটি জ্ঞানবান মানুষের কাছে আহবান জানাবো, আসুন, পিতা-মাতার ব্যাপারে অবহেলা করার ব্যাপারে সাবধান হই। তাদের প্রতি প্রদর্শন করি সর্বোচ্চ সম্মান জনক আচরণ। কারণ এর মাধ্যমেই আমাদের পার্থিব জীবন সুন্দর হবে। গুনাহ-খাতা মাফ হবে। পরকালে মিলবে চির সুখের নিবাস জান্নাত।

☝মহিমাময় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানাই হে পরওয়ারদেগার, আমাদেরকে আমাদের পিতা-মাতার সাথে চির শান্তির নীড় জান্নাতে একত্রিতো করিও। এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো প্রত্যাশা।🔚
🌎Dua..Mei..Yaad..Rakhna🌎

Continue reading

Noor e paygam নূর এ পয়গাম l

লেখা আহ্বান

নূর এ পয়গাম

প্রিয় সাহিত্য সাথী,
অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনাকে জানাচ্ছি যে, শাহ সুফি সাইয়্যিদ মোহাঃ একরামুল হক (রহঃ) আলাইহের ৭৮ তম একরামিয়া ইসালে সাওয়াব উপলক্ষে হুজুর একরামুল হক (রহঃ) এর জীবন দর্শনকে পাথেয় করে ” নূর এ পয়গাম ” নামে পত্রিকা প্রকাশ হবে ( চতুর্থ বর্ষ, বার্ষিক সংখ্যা ) । তার প্রস্তুতি চলছে ।
আপনিও শরিক হন এই মহান কর্মযজ্ঞে । আপনাকে পাশে পেলেই আমাদের এই প্রচেষ্টা সর্বার্থে সফল হবে এই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ।
অতএব পত্রিকার জন্য আপনার মূল্যবান পরামর্শের সঙ্গে নিম্নলিখিত যে কোন একটি বিষয়ে রচনা আগামী ৩১/১২/২০২১ (ইং) তারিখের মধ্যে আমাদের ইমেইল আইডিতে পাঠাতে অনুরোধ জানানো হল ।

বিষয় বস্তু :
১) সুফিবাদের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব ।
২) ইসলাম ও মানবিকতা ।
৩) উত্তরের মুসলমান জনসমাজ ।
৪) ইসলাম ও বর্তমান সমাজ।
৫) বঙ্গে সুফির প্রভাব।
৬) গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ইসলাম ।
৭) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পীঠস্থান একরামিয়া ইসালে সাওয়াব ।
৮) একরামিয়া ইসালে সওয়াব ও আমাদের জীবনে তার প্রভাব ।
৯) সুফিবাদের আলোকে হুজুর সাহেবে ।

**বি.দ্রঃ **
১) শব্দ সংখ্যা সীমাহীন ।
২) প্রেরিত লেখা সম্পাদক মন্ডলীর (আলোচনা সাপেক্ষে ) সম্পাদনার অধিকার থাকবে ।
৩) লেখার সঙ্গে একটি সচল ফোন নং এবং হোয়াটসঅ্যাপ নং টাইপ করে পাঠাবেন ।
৪) মেল ছাড়া লেখা অন্য কোন ভাবে গৃহীত হবে না ।
৫) লেখা PDF ফাইলে অথবা মেল বডিতে টাইপ করে পাঠান ।
৬) লেখা পাঠানোর পর সেই লেখা অন্যত্র পাঠাবেন না ।
৭)গত সংখ্যায় যাদের লেখা ছিল তাঁরা এই সংখ্যায় লেখা পাঠাবেন না।
৮) মেইল ঠিকানা : [email protected]
৯) সৌজন্য কপি দেওয়া হবে।

**শুভেচ্ছান্তে **
যুগ্ম সম্পাদক – “নূর এ পয়গাম”
হলদিবাড়ি, কোচবিহার

**পশ্চিমবঙ্গ, ভারত **

পত্রিকা প্রকাশ হবে :১৭ই ফেব্রুয়ারী ২০২২

যোগাযোগ :
১. এরশাদ – 8972968762
২. নূরনবি – 8116178950
৩. আজাদ – 90023 33580
৪. রাজা – 8348295753

আরতুগ্রুলErtuğrulارطغرلগাজী

আরতুগ্রুল (উসমানীয় তুর্কি: ارطغرل; ১১৯১/১১৯৮, আহলাত – ১২৮১, সুগুত) যিনি আরতুগ্রুল গাজি নামে পরিচিত ছিলেন। উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম উসমানের পিতা। তিনি ওঘুজ তুর্কিদেরকায়ি গোত্রের নেতা ছিলেন। বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে রোমের সেলজুকদের সাহায্যার্থে আরতুগ্রুল মার্ভ‌ থেকে আনাতুলিয়ায় আসেন।[২] এ সময় তিনি বেশ কিছু ধারাবাহিক ঘটনার মাধ্যমে তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্য সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেন। তার ছেলে প্রথম উসমান এবং ভবিষ্যৎ বংশধরদের মত তাকেও গাজী উপাধিতে সম্বোধন করা হয়[৩], যা দ্বারা ইসলামের জন্য লড়াই করা বীর যোদ্ধাদের বোঝায়।

ertugrul
ertugrul halima

যেমন ছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.)।

১/ তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন।
২/ তিনি কম হাসতেন।
৩/ তিনি মুচকি হাসতেন, হাসি ওনার ঠোঁটে লেগে থাকতো।
৪/ তিনি অট্টহাসি হাসতেন না।
৫/ তিনি তাহাজ্জুদ নামাজ ত্যাগ করতেন না।
৬/ তিনি দৈনিক শতবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
৭/ তিনি কখনোই প্রতিশোধ নিতেন না।
৮/ তিনি যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া কাউকেই আঘাত করেননি।
৯/ তিনি বিপদে পড়লে তাৎক্ষনিক নামাজে দাঁড়িয়ে পড়তেন।
১০/ তিনি অসুস্থ হলে বসে নামাজ পড়তেন।
১১/ তিনি শিশুদের সালাম দিতেন।
১২/ তিনি সমাবেত মহিলাদের সালাম দিতেন।
১৩/ তিনি শিশুদের পরম স্নেহ করতেন।
১৪/ তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে কোমল আচরণ করতেন।
১৫/ তিনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।
১৬/ তিনি ঘুম থেকে জেগে মেসওয়াক করতেন।
১৭/ তিনি মিথ্যাকে সার্বাধিক ঘৃণা করতেন।
১৮/ তিনি উপহার গ্রহণ করতেন।
১৯/ তিনি সাদকাহ (দান) করতেন।
২০/ তিনি সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
২১/ তিনি আল্লাহকে সব সময় ভয় করতেন
২২/ হাতে যা আসতো তা আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিতেন।
২৩/ কেউ কথা বলতে বসলে সে ব্যক্তি উঠা না পর্যন্ত তিনি উঠতেন না।
২৪/ বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না।
২৫/ কথা বলার সময় সুস্পষ্টভাবে বলতেন যাতে শ্রবণকারী সহজেই বুঝে নিতে পারে।
২৬/ কথা, কাজ ও লেন-দেনে কঠোরতা অবলম্বন করতেন না।
২৭/ নম্রতাকে পছন্দ করতেন।
২৮/ তাঁর নিকট আগত ব্যক্তিদের অবহেলা করতেন না।
২৯/ কারো সাথে বিঘ্নতা সৃষ্টি করতেন না।
৩০/ শরীয়তবিরোধী কথা হলে তা থেকে বিরত থাকতেন বা সেখান থেকে উঠে যেতেন।
৩১/ আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি নিয়ামতকে কদর করতেন।
৩২/ খাদ্যদ্রব্যের দোষ ধরতেন না। মন চাইলে খেতেন না হয় বাদ দিতেন।
৩৩/ ক্ষমাকে পছন্দ করতেন।
৩৪/ সর্বদা ধৈর্য্য ধারণ করতেন।
রাসুল (সা.) এর গুণাবলি বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নবী (সা.) এর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমিন ।